সব
facebook raytahost.com
আত্রাইয়ে নারীরা কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব‍্যস্ত সময় পার করছেন – Holypennews

আত্রাইয়ে নারীরা কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব‍্যস্ত সময় পার করছেন

আত্রাইয়ে নারীরা কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব‍্যস্ত সময় পার করছেন

নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর আত্রাইয়ে শীতের মৌসুম এলেই উপজেলার প্রতিটি গ্রামের নারীরা খাবারে বাড়তি স্বাদ আনতে কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত  হয়ে উঠেন।  এবারও এর ব‍্যাপ্তি ঘটেনি। শীত জেঁকে বসায় নওগাঁর আত্রাইয়ের প্রতিটি গ্রামে গ্রামে কুমড়ো বড়ি তৈরির যেন ধুম পড়েছে।

কুমড়ো বড়ি তৈরির উপযুক্ত সময় শীতকাল। শীতের সময় গ্রামের নারীদের কর্ম ব্যস্ততা বেড়ে যায়। তারপরও নিত্যদিনের ছোট কাজও বেশি থাকে। এরই মধ্যেই সব কাজের আগে সকাল বেলা কুমড়ো বড়ি তৈরি করেন গ্রামের  নারীরা বেশি ভাগ।কুমড়ো বড়ি তরকারীর একটি মুখরোচক খাদ্য। এতে তরকারীর স্বাদে যোগ হয় নতুন মাত্রা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে,  উপজেলার শত শত নারী কুমড়ো বড়ি তৈরির কাজে ব‍্যস্ত রয়েছেন। শীতের আগমনের সাথে সাথে কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যস্ততা বেড়ে গেছে তাদের। বর্ষাকাল ছাড়া বাঁকি মাস গুলোতে এ অঞ্চলের নারীরা কম বেশি কুমড়ো বড়ি তৈরি করে থাকে। আশ্বিন মাস থেকে ফ্লাগুন এই ছয় মাস এ অঞ্চলে কুমড়ো বড়ি তৈরির ধুম পড়ে যায়। শীতকালে কুমড়ো বড়ি তৈরির ভরা মৌসুম। এ সময় গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে কম বেশি কুমড়ো বড়ি তৈরি করা হয়।

পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাঁকিটা বাজারে বিক্রি করেন। শীতের সময় কুমড়ো বড়ির চাহিদা থাকে বেশি,আর গ্রামাঞ্চলের নারীরা বাড়তি আয়ের জন্য কুমড়ো বড়ি তৈরি করেন। কুমড়ো বড়ি তৈরির প্রধান উপকরণ মাসকলাইয়ের ডাল আর চাল কুমড়া এর সঙ্গে সামান্য মসলা। বাজারে প্রতি কেজি মাসকলাই একশত থেকে এক শত বিশ টাকা আর চাল কুমড়া পনের থেকে বিশ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সাইজ হিসাবে চালকুমড়া পঞ্চাশ টাকা থেকে সত্তর টাকার মধ্যে ক্রয় করা যায়।  পাঁচ কেজি চালকুমড়ার সঙ্গে দুই কেজি মাসকলাইয়ের ডাল মিশ্রণে কুমড়ো বড়ি ভালো হয়। প্রথমে মাসকলাই রৌদ্রে শুঁকিয়ে যাতায় ভেঙ্গে পরিস্কার করে বা না ভেঙ্গে পানিতে ভিজিয়ে রেখে খোসা ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টা মাসকলাই পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়।  এরপর ঢেঁকি বা শিল-পাটায় পিষে নিয়ে কুমড়ো বড়ির মিশ্রণ তৈরি করা হয়। তবে এখন অধুনিকের ছোঁয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুমড়ো বড়ি তৈরির মেশিন স্থাপনের পর থেকে সকলেই মেশিনে মাড়াই করে মাসকলাই ও কুমড়ার মিশণ করা হচ্ছে। এরপর দুইটির মিশ্রণে কুমড়ো বড়ির উপকরণ তৈরি করা হয়। রৌদ্র উজ্জ্বল ফাঁকা স্থান, বাড়ির আঙ্গিনা, ছাদ বা খোলা জায়গায় ভোর থেকে বড়ি তৈরি করা শুরু হয়।পাতলা কাপড়ে সারি সারি বড়ি বসানো হয়। কুমড়ো বড়ি বসানোর পর দুই-তিন দিন পর্যন্ত একটানা রৌদ্রে শুকানো হয়। সূর্যের আলো কম হলে তিন-থেকে চার দিন পর্যন্ত শুকাতে সময় লেগে যায়।  শুকানোর  পর কাপড় থেকে বড়ি উঠিয়ে পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়।

গ্রামের পিছিয়ে পড়া অনেক নারীরা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে শ্রমদিয়ে অনেক বছর ধরে এ কুমড়ো বড়ি তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ পালপাড়া গ্রামের ত্রিশ-চল্লিশটি পরিবার।

ওই গ্রামের নারী কারিগর সুমতিরানী মহন্ত বলেন, আগে কুমড়ো বড়ি ব্যবসায়ী পরিবার গুলো প্রথম অবস্থায় তেমন স্বচ্ছল ছিল না। এখন অনেকেই কুমড়ো বড়ির ব্যবসা করেই স্বাবলম্বী হয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, পাঁচ কেজি কুমড়ার সাথে দুই কেজি মাসকলাইয়ের কুমড়ো বড়ি ভালো তৈরি হয়। আগে মাসকলাই পানিতেভিজিয়ে পরিস্কার করা হয়, আর ঢেঁকিতে বা পাটায় বেটে বড়ি তৈরি করতে প্রচুর  পরিশ্রম হতো সেই সঙ্গে অনেক সময় লাগতো।এখন খোসা ছাড়ানো মাসকলাই বাজারে ক্রয় করতে পাওয়া যায়।মাসকলাই পানিতে ভিজিয়ে মেশিনের সাহায্যে মাড়াই করতে অল্প সময়ে বড়ি তৈরি করা খুব সহজ হয়েছে। এতে করে অল্প সময়ে প্রচুর পরিমান কুমড়ো বড়ি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এক কেজি কুমড়ো বড়ি তৈরি করতে প্রায় একশত বিশ টাকার মতো খরচ হয়। আর বাজারে দুই শত থেকে দুই শত পঞ্চাশ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে পরিবারের চাহিদা  মিটিয়ে বাড়তি আয় করা সম্ভব হচ্ছে।

উপজেলার সাহাগোলা ইউনিয়নের মির্জাপুর পালপাড়া গ্রামের কুমড়ো বড়ির ব্যবসায়ী নারায়ন চন্দ্র ও  ভোঁপাড়ার তিলাবাদুরী গ্রামের কুমড়ো বড়ি ব্যবসায়ী সুশান্ত কুমার বলেন, এখানকার কুমড়ো বড়ি খুব সুস্বাদু হওয়ায় এ অঞ্চলের বড়ি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ জেলায় পাঠানো হয়। বিশেষ করে ঢাকায় ও চট্রগ্রাম, বরিশাল, নারায়নগঞ্জ এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

এছাড়াও কুমড়ো বড়ি ব্যবসায়ীরা আরো  জানান, এটি সারা বছরজুড়ে তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু শীতকালে এর কদর বেশি হয়। কারণ শীতের সময় রান্না করে খেতে এরমজাই আলাদা। তাদের কুমড়ো বড়ি বানানো থেকে শুরু করে সব কাজ বাড়ির মেয়ে বা নারী শ্রমিকরা করে থাকেন। কুমড়ো বড়ি তৈরি করতে নারী শ্রমিকদের মজুরীও কম।  

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কে এম কাওছার হোসেন জানান, শীত মৌসুমে গ্রামের নারীরা কুমড়ো বড়ি তৈরি করে বাড়তি আয় করছে। গ্রামীণ নারীরা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

কর্মীবান্ধব ও জনপ্রিয় ছাত্রনেতা সারোয়ার হোসেন ফয়সাল

কর্মীবান্ধব ও জনপ্রিয় ছাত্রনেতা সারোয়ার হোসেন ফয়সাল

অসুস্থ ও প্রয়াত সাংবাদিকদের স্মরণ করে নরসিংদী সাংবাদিক ইউনিয়নের দোয়া

অসুস্থ ও প্রয়াত সাংবাদিকদের স্মরণ করে নরসিংদী সাংবাদিক ইউনিয়নের দোয়া

নরসিংদীতে বিটিভি’র সাংবাদিক শাহিন মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী  মানবনন্ধন 

নরসিংদীতে বিটিভি’র সাংবাদিক শাহিন মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী  মানবনন্ধন 

রাবিতে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় নরসিংদী জেলা সমিতি

রাবিতে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় নরসিংদী জেলা সমিতি

একুশের পর্দা কাঁপাতে আসছে সোনিয়া লাজুক

একুশের পর্দা কাঁপাতে আসছে সোনিয়া লাজুক

নরসিংদী সদর উপজেলা প্রাবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির সভাপতি আনিছুল, সহ সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জনাব ইফতিশা তাবান্নুম কাশমেরি মনোনীত

নরসিংদী সদর উপজেলা প্রাবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির সভাপতি আনিছুল, সহ সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জনাব ইফতিশা তাবান্নুম কাশমেরি মনোনীত

সর্বশেষ সংবাদ সর্বাধিক পঠিত
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ সারোয়ার খান

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৮৮, তরোয়া, নরসিংদী
ফোনঃ 01711205176 ই-মেইল : mdsaroarkhan@gmail.com
©২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Design & Developed By: Khan IT Host .com