নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে জানে আলম রানা নামে এক দালালের দৌরাত্ম্য অতিষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অভিযোগ উঠেছে, উক্ত রানা সরকারি দপ্তরগুলোতে তার অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সাধারণ মানুষেরকে জিম্মি করে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের মাধ্যমে তিনি এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছেন। তার এমন অপতৎপরতায় সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা চরম অস্বস্তিতে অফিস করতে হচ্ছে ।
ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা এই জানে আলম রানা। সে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস, ভূমি অফিস, নির্বাচন অফিস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কৃষি অফিস এবং পিআইও অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, জানে আলম রানা কোন সরকারী বা বে-সরকারী দপ্তরে কর্মরত নয়। এর পরেও সে একেক সময় একেক পরিচয় দিয়ে কখনো সাংবাদিক আবার কখনো শিক্ষক পরিচয় দিয়ে নিয়মিত সরকারি অফিসগুলোতে ডাব দিয়ে বেড়ায়। বিন্যাস সরকারি অফিসে গিয়ে পরিচয় দিয়ে দাপট দেখিয়ে ফাইলপত্রের নজরদারি করেছেন এবং কর্মকর্তাদের উপর অনেকটা বল প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেন।
তার কথামতো কাজ না করলে বা অনৈতিক দাবি মানতে অস্বীকার করলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের দেখে নেওয়ার হুমকি এবং অশালীন আচরণ করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ ছেড়ে দিয়ে হুকমি প্রদান করেন।
এছাড়াও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে সেবার নামে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকাও হাতিয়ে নেওয়া অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধিনস্থ স্বাস্থ্য সহকারীরা সারাদেশের ন্যায় বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশনের ব্যানারে ৬ দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন।
এ অবস্থায জানে আলম রানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তারা কেন কর্মবিরতি পালন করছেন তাদের সাথে বাগবিতন্ডায় লিপ্ত হয়। এসময় স্বাস্থ্য সহকারীদের কালপিট বলে গালিদেন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথেও অশালীন ভাষায় এবং অশ্রীয ভাষায় কথাবার্তা বলতের শুনা যায়। টিকা প্রদান নার্সদের কাজ না হওয়া সত্ত্বেও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাদ দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নার্স দিয়ে টিকা প্রদানে জন্য বল প্রযোগ করেন।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় সমন্বয় পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুল হক চৌধুরী বলেন, এই জানে আলম রানা আসলে কোন সাংবাদিক ও শিক্ষকও না। রাঙ্গুনিয়ার সকল সাংবাদিক এবং শিক্ষক ভাই বন্ধুদের সাথে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ওতপ্রোতভাবে কাজ করি। আমরা কেউ তাকে চিনি না। সেখানকার মানুষ তাকে ভূয়া ও দালাল বলে আখ্যা দিয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে সে একজন দুর্বৃত্ত, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি ধমকি দিয়ে সে ফায়দা লুটতছেন। তাছাড়াও সে সরকারি অফিসে ঢুকে হুমকি-ধমকি দিয়ে রাঙ্গুনিয়ার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অবনতি করতে অনলাইনে লাইভে এসে উস্কানি দিচ্ছে। আমরা তাকে গ্রেফতারপূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একজন সরকারি কর্মচারী বলেন, “রানার যন্ত্রণায় আমরা ঠিকমতো কাজ করতে পারছি না। সে যখন তখন রুমে ঢুকে পড়ে এবং অযৌক্তিক দাবি নিয়ে আসে। তার জন্য অফিসের স্বাভাবিক কাজের পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।”
অভিযুক্ত জানে আলম রানা সাথে যোগাযোগ জন্য কয়েক দফা চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: জয়নাব জমিলা বলেন, আসলে আমার কার্যালয়ে সে গত বুধবারে এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছে। এর পরদিন ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বড়দিনের সরকারি ছুটি এবং শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিল। আগামীকাল (শনিবার) অফিস খোলা তার বিরুদ্ধে কি ব্যাবস্থা নেওয়া যায় সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিব।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নিবার্হী অফিসার মো: নাজমুল হাসান যোগায়োগের করে বিষয়টি উপস্থাপন করলে তিনি লাইভে দেওয়া তাকে দেওয়ার কথা বলেন। ভিডিও লিংকটি দেওয়ার পর তাকে পুনরায় ফোন দেওয়া হলে তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।


