সব
facebook raytahost.com
সাংবিধানিক জটিলতায় রায়পুরা প্রেসক্লাব; এর জন্য দায়ী কে? – Holypennews

সাংবিধানিক জটিলতায় রায়পুরা প্রেসক্লাব; এর জন্য দায়ী কে?

সাংবিধানিক জটিলতায় রায়পুরা প্রেসক্লাব; এর জন্য দায়ী কে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাংবিধানিক জটিলতায় পড়েছে নরসিংদীর রায়পুরার বৃহৎ সাংবাদিক সংগঠন রায়পুরা প্রেসক্লাব। নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে গঠণতন্ত্রকে পাশ কাটিয়ে গঠণতন্ত্র বিরোধী বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মেয়াদ কালীন সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং সর্বোপরি বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হলেও ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে তা আঁকড়ে ধরে থাকায় এ জটিলতার সৃষ্টি হয়। আর এই জটিলতার জন্য  দায়ী কে সে বিষয়টি রায়পুরার সাংবাদিক ও সচেতন মহলে ওপেন সিক্রেট।
গত বুধবার (২২ মার্চ) ছিল নির্দিষ্ট সময়সীমার শেষ দিন।  নির্দিষ্ট মেয়াদকাল শেষ হলেও বর্তমান কমিটি এখনও ক্ষমতাকে আকড়ে ধরে রাখায় যে সকল সংবাদকর্মী ক্লাব ও সাংবাদিকদের উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন এবং সুস্থ্যধারার সাংবাদিকতা চর্চার কথা চিন্তা করেন তারা পড়েছে বিপাকে। আদৌ এ জটিলতা থেকে উত্তরণ সম্ভব কিনা এ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে ।
জানা যায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলা রায়পুরার সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলা সংবাদকর্মীদের এই সংগঠন রায়পুরা প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৮৩ সালের ১৯ মার্চ। ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিক। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অত্যন্ত সুনামের সাথে এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পর বর্তমান কমিটির গুটিকয়েক স্বার্থান্বেসী ব্যক্তি সাংবিধানিক এই জটিলতা তৈরি করে ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটিকে করেছে কুলোষিত। যার দায়ভার পড়েছে পুরো কমিটির উপর।
রায়পুরা প্রেসক্লাবের গঠণতন্ত্রের ধারা ৮ নং অনুযায়ী চলমান কমিটির মেয়াদকাল শেষ হওয়ার ৩০দিন পূর্বে  নির্বাহী উপদেষ্টা কমিটিকে  নির্বাচন কমিশন গঠনের আহবান জানানোর বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও ওই স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি তা করতে কালক্ষেপন করে। পরবর্তীতে সাংগঠনিক জটিলতা সৃষ্টি করতে মেয়াদকাল শেষ হওয়ার ২৪ দিন পূর্ব চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বার্ষিক সাধারণ সভা আহবান করে। ওই সভায় ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম নূর উদ্দীন আহমেদ কারো সাথে কোন আলাপ আলোচনা না করেই ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি সার্চ কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে ।  সার্চ কমিটির বিষয়ে ক্লাবের গঠণতন্ত্রে এমন কোন ধরণের তথ্য বা ধারণা দেওয়া নেই । অথচ সাধারণ সম্পাদক অন্য সদস্যদের লিখিত কোন মতামত না নিয়েই নিজের বলয় ভারী করতে গঠণতন্ত্র বহির্ভূত এ কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন। যার প্রধান সমন্বয়ক করা হয় ক্লাবের উপদেষ্টা মোছলেহ উদ্দীন বাচ্ছুকে। সার্চ কমিটি ক্ষমতা হাতে পেয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করেন। গঠণতন্ত্রকে উপেক্ষা করে কোন রকম তফসীল ঘোষণা না করেই প্রার্থী বাছাইয়ের নামে ৫০০টাকা করে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে। আর মনোনয়ন ফরমে অসাংবিধানিক ভাবে এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে স্বাক্ষর করেন সার্চ কমিটির  সমন্বয়ক মোছলেহ উদ্দীন বাচ্চু। পরবর্তীতে এই প্রার্থী যাচাই বাছাইসহ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হয়ে নিজেদের অক্ষমতার দায় শিকার করে গত ১২ মার্চ সার্চ কমিটির সদস্যরা তাদের ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
এদিকে রায়পুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম নূর উদ্দীন  ক্লাবের নিরীহ ও সাধারণ সদস্যদের মানুষিকভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শণ করতে রাজনৈতিক নেতা নামধারী বহিরাগতদের সাথে নিয়ে ক্লাবে আসা-যাওয়াসহ আড্ডা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত ৮ মার্চ  মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন শার্ট-প্যান্ট পড়া আবার কেউ শার্ট-লুঙ্গি এবং লুঙ্গি-গেঞ্জি পড়া অবস্থায় কয়েকজন ছাত্র নেতাকে সাথে নিয়ে প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে। এসময় নরসিংদী থেকে বেশ কয়েকজন অতিথি সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সে তাদের সামনেই
 ওই সকল ছাত্র নেতাদের বসিয়ে রাখতে দেখা যায়। পরবর্তীতে এ বিষয়টি নিয়ে ক্লাবের সদস‍্যদের মাঝে বেশ আলোচনা- সমালোচনা শুরু হয়।
এই সেই নূর উদ্দিন, যিনি ম্যানেজ শব্দটার সাথে খুব বেশি পরিচিত। কিভাবে কাকে ম্যানেজ করতে হয়, সে বিষয়টা তিনি খুব ভালো পারেন। যার উৎকৃষ্ট উদারণ হিসেবে বলা যায় ২০২১ সালের ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত রায়পুরা প্রেসক্লাবের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী মনিরুজ্জামান মনিরের সাথে ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হলেও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে পরবর্তী নির্বাচনের সেই ফলাফল পাল্টে ফেলা হয়। যা নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সাংবাদিক মো. ফারুক মিয়া নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে দেওয়া হলফনামায় উল্লেখ করেন। হলফনামায় তিনি বলেন,  ওই নির্বাচনে কাপ-পিরিচ প্রতিকে এম নূর উদ্দীন ২১ ভোট এবং ছাতা প্রতিকে মনিরুজ্জামান মনির ২২ ভোট পেলেও পরবর্তী এ ফলাফল পাল্টে ফেলা হয়।
নির্বাচনে প্রার্থীদের নাম প্রতিক ও প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা উল্লেখ করে চুড়ান্ত ফলাফল তালিকায় নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থাকা মো. ফারুক মিয়াসহ অন্য  সকল  সদস্যদের স্বাক্ষর থাকলেও পরবর্তীতে ফলাফল পাল্টে প্রধান নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থাকা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জাকির হোসেন মোল্লার একক স্বাক্ষরে চুড়ান্ত ফলাফল পেশ করা হয়।  সেই ফলাফলে  বিজিত প্রার্থী নূর উদ্দীনকে বিজয়ী দেখানো হয়।
সে সময়ে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসার পর নূর উদ্দিন যারা তাকে ভোট দেয়নি তাদেরকে বিভিন্নভাবে বকাঝকা সহ দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে রায়পুরা প্রেসক্লাবের একজন সদস্য বলেন, সাধারণ সম্পাদক নুরউদ্দিন রাজনৈতিক পরিমণ্ডল থেকে উঠে আসায় রায়পুরা প্রেসক্লাবটাকে রাজনীতির আড্ডাস্থল বানিয়ে ফেলেছে। শুধু তাই নয় সাংবাদিকের লেবাস লাগিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য দিয়ে থাকেন তিনি। যা একজন সাংবাদিকের আদৌ করণীয় নয় বলে একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আমি তা মনে করি।
ক্লাবের অপর এক সদস্য বলেন, আসলে নূর উদ্দিনের কাজ হচ্ছে নানা বিষয়ে ইউএনও’র কান ভারী করা। শুধুমাত্র ইউএনও’র আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সে এ হেন কর্মকান্ড করছে।
সার্চ কমিটির সমন্বয়ক  মোছলেহ উদ্দীন বাচ্চু বলেন, ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভায় মতামতের ভিত্তিতে আমাদের পাঁচজনকে সমন্বয়ক করে সকলের ঐক্যমতে একটি কমিটি উপহার দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই লক্ষ‍্যে আমরা মনোনয়ন ফরম বিক্রি করি।  এক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রে কি আছে আর কি নেই তা আমরা আমলে নেইনি। আমরা একটি সুন্দর কমিটি উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছি মাত্র। তা করতে না পারায় গত ১২ মার্চ আমরা আমাদের ক্ষমতা হস্তান্তর করি।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন সাধারণ সম্পাদক নূর উদ্দিনের রাজনৈতিক নেতা নামধারী বহিরাগতদের সাথে নিয়ে ক্লাবে আসার বিষয়ে মোছলেহ উদ্দীন বাচ্চু বলেন, কেন তাদেরকে নিয়ে এসেছে এ বিষয়ে আমি তাকে শাসন করেছিলাম। বিগত নির্বাচনে নূর উদ্দিনকে ভোট না দেওয়ায় মোছলেহ উদ্দীন বাচ্চুর পুত্রবধূ রায়পুরা প্রেস ক্লাবের মহিলা বিষয়ক সম্পাদীকা লাইলী বেগমকে বকাঝকার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি শুনেছি সে বকাঝকা করেছে।
রায়পুরা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসাইন বলেন, বর্তমানে  যারা কমিটিতে আছে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতেই এই সাংবিধানিক জটিলতা সৃষ্টি করেছে। সরকারীভাবে অনেক সুযোগ-সুবিধা তারা নিয়েছে আরো নেওয়ার জন্য ক্ষমতাকে আকঁড়ে ধরে রাখতে চায়। এরা নিজেদের পকেট ভারি করতে সাংবাদিকতা করে তাছাড়া কিছুই নয়। এরা পেশাটাকে কুলষিত করে ফেলেছে।
রায়পুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা খান বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেকদিন আগে থেকে সাধারণ সম্পাদককে সাধারণ সভা আহবান করার কথা বললেও সে আমার কথায় কোন কর্ণপাত করেনি। পরে ২৪ দিন বাকী থাকতে সভা আহবান করে এবং কারো সাথে কোনরকম আলোচনা না করেই ৫ সদস্য বিশিষ্ট সার্চ কমিটির নাম ঘোষণা করেন। সার্চ কমিটি কার্যকরী কমিটির বিভিন্ন পদে প্রার্থীর যাচাইয়ের জন্য মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেন। কিন্তু সর্বশেষ তারা কমিটি উপহার দিতে ব্যর্থ হলে আমার একক স্বাক্ষরে গত ১৪ মার্চ একটু সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করি।
এ বিষয়ে রায়পুরা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম নুর উদ্দিন আহমেদ’র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বললে “ঈদের পর নির্বাচন হবে এবং এ বিষয়ে ইউএনও অবগত আছেন বলে প্রতিবেদককে অন্য প্রশ্ন এনে প্রাসঙ্গিক প্রশ্নকে এড়িয়ে যান”।
এ ব্যাপারে রায়পুরা প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা,  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজগর হোসেন’র সাথে কথা বলার জন্য কয়েক দফায় বেশ কয়েকবার তার (০১৯৭২-৬৮৭০১০ এই নাম্বারে)
মোবাইলে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন :

কর্মীবান্ধব ও জনপ্রিয় ছাত্রনেতা সারোয়ার হোসেন ফয়সাল

কর্মীবান্ধব ও জনপ্রিয় ছাত্রনেতা সারোয়ার হোসেন ফয়সাল

অসুস্থ ও প্রয়াত সাংবাদিকদের স্মরণ করে নরসিংদী সাংবাদিক ইউনিয়নের দোয়া

অসুস্থ ও প্রয়াত সাংবাদিকদের স্মরণ করে নরসিংদী সাংবাদিক ইউনিয়নের দোয়া

নরসিংদীতে বিটিভি’র সাংবাদিক শাহিন মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী  মানবনন্ধন 

নরসিংদীতে বিটিভি’র সাংবাদিক শাহিন মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী  মানবনন্ধন 

রাবিতে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় নরসিংদী জেলা সমিতি

রাবিতে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় নরসিংদী জেলা সমিতি

একুশের পর্দা কাঁপাতে আসছে সোনিয়া লাজুক

একুশের পর্দা কাঁপাতে আসছে সোনিয়া লাজুক

নরসিংদী সদর উপজেলা প্রাবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির সভাপতি আনিছুল, সহ সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জনাব ইফতিশা তাবান্নুম কাশমেরি মনোনীত

নরসিংদী সদর উপজেলা প্রাবাস বন্ধু ফোরাম কমিটির সভাপতি আনিছুল, সহ সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জনাব ইফতিশা তাবান্নুম কাশমেরি মনোনীত

সর্বশেষ সংবাদ সর্বাধিক পঠিত
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ সারোয়ার খান

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৮৮, তরোয়া, নরসিংদী
ফোনঃ 01711205176 ই-মেইল : mdsaroarkhan@gmail.com
©২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Design & Developed By: Khan IT Host .com