সব
facebook raytahost.com
নরসিংদীতে কয়েদির উপর অমানুষিক নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন | Holypennews

নরসিংদীতে কয়েদির উপর অমানুষিক নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

নরসিংদীতে কয়েদির উপর অমানুষিক নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নরসিংদীতেকারাবিধি অমান্য করে জেলা কারাগারে রাতের আধাঁরে লিজন মোল্লা (৩০) নামে এক হাজতির উপর অমানুষিক নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

রবিবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে এগারোটার সময় নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে নির্যাতিত হাজতির স্বজন ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে লিজনের মা সাজেদা বেগম বলেন,একটি মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় গত ১২ জুন আমার ছেলে লিজন মোল্লাকে বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে নরসিংদী সদর মডেল থানা পুলিশ। ১৩ জুন আদালতের নির্দেশে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। গত ১৮ জুলাই জেল হাজত থেকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত থেকে পূনরায় জেল হাজতে ফিরে গেলে রাতে কারারক্ষিরা মোবাইল ফোন খোঁজার নামে তার দেহসহ বিছানার আশপাশ তল্লাশি করে চলে যায়।
পরবর্তীতে রাত গভীর হলে সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন জেল সুপার শফিউল আলম‘র নেতৃত্বে কয়েকজন কারারক্ষি কারাবিধি অমান্য করে মুখে কালো কাপড় বেধে লিজনের কাছে যায় এবং তার দুই হাতে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে মুখে কাপড় বেধে তার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায় এসময় তার পুরুষাঙ্গে বার বার তারকাঁটা দিয়ে ফুটো করে তার পুরুষাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করতে থাকে। এর ফলে তার বাম পা ও কোমড়ের একটি হাড় ভেঙ্গে যায় ।সকালে দ্বিতীয় দফায় তাকে আবার পিটানো হলে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।এক কয়েদির মাধ্যমে জেলখানায় লিজনকে পিটানোর খবর পেয়ে তাকে দেখতে জেলগেটে ছুটে যাই। সেখানে গেলে লিজনের সাথে দেখা করতে জেলা প্রশাসকের নিষেধ আছে বলে আমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এসময় কারাগারে থাকা অন্য এক হাজতির সাথে দেখা করে জানতে পারি ১৮ জুলাই লিজনের ফেইসবুক আইডি থেকে তার কয়েকটি ছবি পোস্ট হয়।এতে করে কারাগারে লিজন মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে সন্ধেহ করে তাকে এভাবে পিটানো হয়।
ছেলের জন্য বিভিন্ন মহলে ছুটাছুটি করে অবশেষে ২০ জুলাই নরসিংদী জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিলে তারা জেল সুপারের সাথে সাক্ষাত করে।পরে এ নিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এ অবস্থা বাহিরে জানাজানি হলে জেল সুপারের সমস্যা হতে পারে বিধায় বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।

লিজনের মা সাজেদা বেগম আরো বলেন, জেল সুপার বাদী পক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের প্ররোচনায় আমার ছেলেকে প্রাণে মেরে ফেলার জন্য রাতের আধারে কারাবিধি অমান্য করে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে। আজ আমার ছেলের জীবন শংকটাপন্ন। আমার ছেলে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কাশিমপুর কারাগারে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এ অবস্থায় তার সুচিকিৎসার জন্য আদালতের কাছে জোড় দাবী জানানো সহ তার উপর অমানুষিক নির্যাতনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

লিজনের স্ত্রী রুনা বেগম জেল সুপার শফিউল আলমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কার নির্দেশে,কত টাকার বিনিময়ে আপনি আমার স্বামীর পা ও কোমরের হাড় ভেঙে ফেলা সহ তার যৌনাঙ্গ তারকাটা দিয়ে ছিদ্র করে ক্ষতবিক্ষত করেছেন ?
এসময় তিনি তার স্বামীর সুচিকিৎসা সহ জেল সুপার শফিউল আলমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য ডিআইজি প্রিজন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, লিজনের ছোটভাই লিমন ও এলাকাবাসীর পক্ষে কাজী ইসমাইল খলিল সোহাগ।
উল্লেখ্য যে, কারাগারে যাবার আগে প্রতিনিধি টিম লিজনদের বাড়ী গিয়ে জানতে পারে গ্রেফতার হওয়ার আগে লিজন তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বাড়ীতেই রেখে এসেছিল। মাঝে মধ্যে ওই ফোনটি তার ছোট ভাই চালাতেন। গত ১৮ জুলাই ওই ফোন ব্যবহার করে তার ছোট ভাই লিজনের আইডি থেকেই লিজনের কয়েকটি ছবি পোস্ট দেয়। বর্তমানে ওই মোবাইলটি নরসিংদী জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবে গচ্ছিত রয়েছে।

জেলখানা থেকে প্রতিনিধি দল ক্লাবে ফিরে গেলে
লিজনের ছোট ভাই উপস্থিত সাংবাদিকদের মোবাইল ফোনের একটি কল রেকর্ড শুনায়। ওই কল রেকর্ডে জানা যায় লিজনকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে ভ্যানে তাকে পাঠানো হয়েছে তাতে থাকা অবস্থায় ওই কল রেকর্ডটি করা হয়েছে। গাড়ীর আওযাজে স্পট শুনা না গেলেও লিজনের উপর যে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে তা বুঝতে কারোই বাকি ছিল না। সে বার বার তাকে বাচানোর জন্য আকুতি জানিয়েছে পরিবারের লোকদের কাছে।
কল রেকর্ডটি শুনার পর জেল সুপারের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করলে তিনি তা রিসিভ করেনি। পরে জেলার রিজিয়া বেগমকে ফোন করে লিজনকে কি কাশিমপুর পাঠানো হয়েছে এ কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন না আমরা পাঠানোর আদেশ কপি পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। এসময় মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডের কথা তাকে জানানো হলে তিনি বলেন, তাহলে আমি জেনে নেই বলে ফোনটি রেখে দেন।
এর কিছুক্ষণ পর তিনি নিজে ফোন করে লিজনকে কাশিমপুর পাঠানো হয়েছে স্বীকার করে সেখানে তার কোন সমস্যা হবেনা বলে ও জানান তিনি।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) কাশিমপুর কারাগারের গিয়ে লিজনের সাথে স্বাক্ষাত করে তার স্বজনরা। তাকে দেখে সবাই হতচকিত হয়ে যান। দুইজন কারারক্ষীর শরীরে ভর দিয়ে কোমরে প্রচন্ড ব্যাথা নিয়ে কোন রকমে দাঁড়িয়ে সে দেখা করতে আসে। বাম পা ভাঙ্গা, কোমরের একটি হাড় ভাঙ্গা সারা শরীরে মারের ছোপ ছোপ দাগ। এসময় লিজন তার স্বজনদের শুধু বিলাপ করে বলে যাচ্ছিল ‘ভাই আমি আর বাঁচতাম না, আমারে হেরা মাইর‌্যা শেষ কইরা ফালাইছে।’

জেল সুপার শফিউল আলমের মুঠোফোনে কল করে লিজনকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন,কারাগারে লিজন কম্বল ও বালিশে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমরা বিষয়টি হেড অফিসকে অবগত করলে হেড অফিস থেকে তাকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কারাগারে জেল কোড অমান্য করে জেল সুপারের নেতৃত্বে মুখে কাপড় বেঁধে কয়েকজন মিলে লিজনকে বেধড়ক মারধরসহ তার পুরুষাঙ্গে তারকাটা দিয়ে ছিদ্র করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন,লিজনের সাথে আমার কোন ব্যাক্তিগত শত্রুতা নেই সুতরাং কারাগারে তাকে পেটানোর প্রশ্নই আসে না। তাকে কাশিমপুর পাঠানোর সময় সেখানে ডাক্তার ও উপস্থিত ছিল। তাছাড়া সে যখন হাজিরা দিতে আসবে তখন তাকে পেটানো হয়েছে কিনা তা আপনারা জানতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

ভারী বর্ষণে পানিতে তলিয়ে গেছে সিলেট নগরী; ভেস্তে গেছে ঈদ আনন্দ

ভারী বর্ষণে পানিতে তলিয়ে গেছে সিলেট নগরী; ভেস্তে গেছে ঈদ আনন্দ

উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নরসিংদীতে ঈদুল আযহা পালন করছে মুসলমানরা

উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নরসিংদীতে ঈদুল আযহা পালন করছে মুসলমানরা

লংগদুতে বজ্রপাতে ৪ জন নিহত, নিখোঁজ-১

লংগদুতে বজ্রপাতে ৪ জন নিহত, নিখোঁজ-১

পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যা; কাঁদলেন স্বামী

পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যা; কাঁদলেন স্বামী

প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ১৪ বছর পর জেলা প্রশাসকের উদারতায় শিক্ষক-কর্মচারীরা পেল বেতন-ভাতা

প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ১৪ বছর পর জেলা প্রশাসকের উদারতায় শিক্ষক-কর্মচারীরা পেল বেতন-ভাতা

নরসিংদীতে কাভার্ডভ্যানের চাপায় রিক্শা যাত্রী নিহত

নরসিংদীতে কাভার্ডভ্যানের চাপায় রিক্শা যাত্রী নিহত

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ সারোয়ার খান

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৮৮, তরোয়া, নরসিংদী
ফোনঃ 01711205176 ই-মেইল : mdsaroarkhan@gmail.com
©২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Design & Developed By: Khan IT Host .com