তিনদিন পর নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার
জাহিদুল ইসলাম জাহিদ
দুই শিশু কন্যাকে সাথে নিয়ে শীতলক্ষ্যার শাখা বানার নদীতে ঝাঁপ দেয় মানসিক ভারসাম্যহীন আরিফা আক্তার নামে এক মা। এই ঘটনার ৩ দিন পর প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূর নরসিংদীর পলাশের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে নিখোঁজ শিশু মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। বুধবার রাতে উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার নিজাম উদ্দিন ঘাট থেকে মুর্শিদা আক্তার (৭) নামে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে মাধবদীর বঙ্গারচর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। তবে এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ থাকা মা আরিফা আক্তারের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বঙ্গারচর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার নিজাম উদ্দিন ঘাটে একটি শিশুর লাশ ভেসে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে নৌ-পুলিশ সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে লাশটি উদ্ধার করে। এসময় লাশটির পরিচয় শনাক্ত করতে গিয়ে জানা যায়,গত রবিবার দুপুরে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সিংহশ্রী ইউনিয়ন এলাকায় দুই শিশুকে নিয়ে বানার নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ছিলেন আরিফা আক্তার নামে এক মা। ওই সময় স্থানীয়রা তাহমিদা আক্তার (৯) নামে এক শিশুকে বানার নদী থেকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও নিখোঁজ ছিলেন মা আরিফা আক্তার ও তার শিশু কন্যা মুর্শিদা আক্তার। জীবিত উদ্ধারকৃত তাহমিদার মুখে তাদের দু’বোন সাথে নিয়ে নদীতে ঝাপ দেওয়া বিষয়টি অবগত হলে স্বজনরা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। নিখোঁজের ঘটনায় কাপাসিয়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা টানা দুই দিন উদ্ধার অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ হয়।
উদ্ধারকৃত তাহমিদা মামা হেদায়েত উল্লাহ জানান, আমার বোন আরিফা আক্তারের বিয়ে হয়েছিল নারায়ণগঞ্জে। সেখানে দুই মেয়ে হওয়ার কয়েক বছর পর তার স্বামী মারা যায়। এরপর থেকেই সে আমাদের কাপাসিয়ায় বাপের বাড়ি চলে আসে। কিন্তু ধীরে ধীরে সে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে যায়। অনেক সময় তাকে শিকলবন্দি করেও রাখতে হতো। তিনি আরও বলেন, নদী থেকে উদ্ধারকৃত আমার ভাগনির কাছ থেকে শুনেছি, সকালে তাদের মা জুতা ও জামা-কাপড় কিনে দেওয়ার কথা বলে তাকে ও তার ছোট বোনকে নিয়ে বাজারের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে বানার নদীর তীরে পৌঁছে তাদের নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয়। তবে মায়ের হাত ফসকে গেলে তাহমিদা নদীতে থাকা একটি বাঁশের মাচা ধরে ভেসে থাকে। পরে স্থানীয় জেলেরা তাকে উদ্ধার করে।
বঙ্গারচর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম জানায়, উদ্ধারকৃত শিশু মুর্শিদা আক্তারের মরদেহ তার মামা হেদায়েত উল্লাহর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।